দেশজুড়ে লকডাউনের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩মে পর্যন্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী।



দেশজুড়ে লকডাউনের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩মে পর্যন্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বেশ কয়েক কদম এগিয়ে রয়েছে ভারত। সময়মত নেওয়া হয়েছিল লকডাউনের সিদ্ধান্ত ও। আজ সেই ২১দিনের লকডাউনের ছিল শেষদিন। কিন্তু এতো সতর্কতা সত্তেও দেশে করোনা ভাইরাসের থাবায় এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩৯জন। আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১০,৩৬৩ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১২১১জন। ফলে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সকলের কপালে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভিডিও বৈঠকে অধিকাংশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী লকডাউন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখেন। ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সহ ন’টি রাজ্যে লকডাউনের মেয়াদ দু’ সপ্তাহ বাড়িয়ে ও দিয়েছে। আজ ফের জাতীর উদ্দেশ্য ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই করোনা পরিস্থিতিতে চতুর্থবারের মতো জাতীর উদ্দেশ্য ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

 

এদিন লকডাউন ৩মে পর্যন্ত জারি রাখার ঘোষণা করলেও,তিনি আরও উল্লেখ করেন,মূলত ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সমস্ত রাজ্যের দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হবে। কোথায় কোথায় করোনা সংক্রমণ বাড়ছে সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। যে যে অঞ্চলে দেখা যাবে নতুন করে আর করোনা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে না,সেসব এলাকায় ২০ এপ্রিলের পর থেকে লকডাউনের ক্ষেত্রে কিছু কিছু ছাড় দেওয়া হবে। এছাড়া ও লকডাউন মেনে চলার জন্য দেশবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একনজরে দেখে নিন কি কি ঘোষণা করলেন তিনি আজ।

 

ওষুধ থেকে খাদ্যশষ্য,দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। এই সময়ে রবিশস্য কাটার কাজ চলছে, ফলে কৃষকদের যতটা সম্ভব ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন গাইডলাইনে সেই বিষয়টি মাথায় রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যারা দিন আনে দিন খায়,তাদের জন্য সবচেয়ে বেশি চিন্তা। কাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি হবে। হটস্পটগুলিতে বাইরে বেরনোর উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ থাকবে। নতুন হটস্পট হলে আমাদের দায়িত্ব ও পরীক্ষা আরও বেড়ে যাবে। যে স্থানগুলি হটস্পটে পরিণত হতে পারে ,সেগুলোর উপরে কড়া নজর রাখতে হবে। ঐ এলাকাগুলিকে নির্ধারিত করে আগের থেকেও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। করোনার এই ভাইরাসে মৃত্যু হলে আমাদের চিন্তা বেড়ে যায়। আগামী ৩ মে অবদি ঘরেই থাকুন। ৩ মে পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে লকডাউন।

 

সারা দেশ থেকে একটাই পরামর্শ আসছে লকডাউন বাড়ানো হোক। সারা বিশ্বের পাশাপাশি দেশেও অনেক আলোচনা চলছে। সামাজিক দূরত্ব ও লকডাউনে লাভ পেয়েছে দেশ। আর্থিক দৃষ্টিতে দেখলে এর জন্য দেশকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। কিন্তু দেশবাসীর জীবনের কাছে এই ক্ষতি কিছুই না। ভারত যে পথে হেটেছে তা নিয়ে দুনিয়ার সকলে চর্চা করছে। রাজ্য সরকার গুলিও অনেক দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছে। ভারত সমস্যা বাড়ার অপেক্ষা করেনি। সমস্যা দেখেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে ঠেকানোর চেষ্টা করেছিল। এটা এমন সঙ্কট যে কোনও দেশের সঙ্গেই তুলনা করা যায় না। তবুও বিশ্বের বড় বড় দেশের সঙ্গে পরিসংখ্যান বিচার করলে ভারত তুলনামূলক ভাবে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে।

 

করোনা পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে কিছুদিন আগেও যেসব দেশের সঙ্গে ভারত এক আসনে ছিল সেখানে এখন মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। ভারতে সারা বছরই প্রচুর উৎসব হয়। যেমন পয়লা বৈশাখ, তাও দেশবাসী ঘরে থেকে লকডাউন পালন করছেন। অনেকেই ঘর পরিবার ছেড়ে দূরে রয়েছেন। আপনাদের ত্যাগের জোরে ক্ষতি অনেকটা সামলানো গিয়েছে। করোনার বিরুদ্ধে লড়াই ভারত এগিয়ে নিয়ে চলেছে। লকডাউনের সময় দেশের মানুষ অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন। আপনারা দেশের স্বার্থে এক জন সেনার মতোই কাজ করে গিয়েছেন। আপনারা উৎসবের সময়েও সংযম দেখিয়েছেন। এটা খুবই প্রশংসার যোগ্য।
প্রসঙ্গত উল্লেখ ন’টি রাজ্যে এর আগেই লকডাউনের সময় বাড়িয়ে ৩০ এপ্রিল করা হয়েছিল।

error: