কেন্দ্রের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্যই তাপসের মৃত্যু, বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়



 গত ১৮ ফেব্রুয়ারী মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান অভিনেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল নেতা তাপস পাল। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। সোমবার রাতে কলকাতায় আনা হয় তার মরদেহ। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রবীন্দ্র সদনে। এখানে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এবং শেষ বারের মতো দেখতে হাজির হন টলিপাড়া। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

 

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর গলায় অন্য সুর। ‘সাহেব’, ‘গুরুদক্ষিনা’ খ্যাত এই অভিনেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল নেতার অসময়ের এই মৃত্যুর জন্য মমতা দোষারোপ করলেন বিজেপি কে। এর আগে বহুবার, বিজেপির বিরুদ্ধে এজেন্সি লেলিয়ে রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এবার সরাসরি বিজেপিকে তাপস পালের মৃত্যুর জন্য দায়ী করলেন তিনি। এদিন প্রয়াত তাপস পালকে শ্রদ্ধা জানাতে এসে তিনি বলেন, মানুষের জীবন শেষ করে দিচ্ছে বিজেপি।

 

কেন্দ্রের এজেন্সির চাপে তিন জনের মৃত্যু। চার্জশিট ছাড়াই জেলবন্দি তাপস। কেন্দ্রের চাপে আমাদের তিন জন মারা গেল। বিজেপির চাপে আহত, ক্ষতবিক্ষত তাপস। দিনের পর দিন লাঞ্ছনা, গঞ্জনার শিকার। বড় অসময়ে মৃত্যু হল তাপসের। প্রতিহিংসার জন্যই তাপসের মৃত্যু। ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর কলকাতা থেকে তাপস পালকে গ্রেফতার করে সিবিআই। তারপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ভুবনেশ্বরে । তাপসের জামিনের চেষ্টা চললেও বারবার তার বিরোধিতা করেছে সিবিআই। সিবিআই এর উত্তর ছিল, তাপস পাল চিটফান্ড কেলেঙ্কারির অন্যতম মাথা। তাঁকে জামিন দিলে তদন্তে সমস্যা হবে। সব মিলিয়ে ভুবনেশ্বরের জেলে কাটাতে হয়েছে তার বছর দুয়েক এর ও বেশী। জামিন মেলে ২০১৮ তে।তবে তারপর ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি অভিনেতা। এদিকে গতকাল তাঁর শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজনেও চলল রাজনৈতিক তরজা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সুরে তাল দিল বাম, কংগ্রেস ও। অভিনেতার আত্মীয় পরিজনদের মতে, অভিনেতা থেকে নেতা হতে যাওয়াই কাল হয়েছে তাঁর। মৃত্যুর পর ও রাজনীতি তাঁকে ছাড়লো না। সূত্রের খবর অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে সর্বশেষ তুহিন সিনহার ছবিতে অভিনয় করছিলেন তিনি। তবে সে শুটিং ও শেষ হওয়ার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন নায়ক।

error: