পড়ার ফাঁকে সেলাই কাজ করে মেধাবী ছাত্রী সুপর্ণা, উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে পঞ্চম, শুভেচ্ছা জানালেন সীরাত ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট



এহসানুল হক, গাইঘাটাঃ– সুপর্ণা খাতুন, উচ্চ মাধ্যমিকে সারা রাজ্যের মধ্যে পঞ্চম স্থানাধিকারী। বেড়িগোপালপুর আদর্শ বিদ্যালয়ের ছাত্রী সুপর্ণা বরাবরই মেধাবী। এবারে উচ্চমাধ্যমিকে তার প্রাপ্ত নম্বর পাশের ৫০০ মধ্যে ৪৯৫। সীমান্ত ছোঁয়া গাইঘাটার সুবিদপুর গ্রামের দীন দরিদ্র অসহায় পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক চাষী আলি হোসেন সরদারের একমাত্র কন্যা। ভাই অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। নিজের মাত্র ৯ কাঠা জমি, অন্যের জমিতে কাজ করে কোনো রকমে সংসার চলে। জব কার্ডের কাজ করে বাবা মা দুজনই। সংসারের অভাব অনটন ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় বাঁধা হতে দেয়নি মা নারগিস সরদার। পড়াশুনার পাশাপাশি মায়ের সঙ্গে কখনো সেলাইয়ের কাজ করেন, কখনো আবার রান্নার সময় মাকে সাহায্য করা তারপর পড়াশোনা। পড়ার ফাঁকে সুপর্ণা ছবি আঁকতে ভালোবাসে গল্পের বই কবিতা পড়তে। এই সাফল্যে সে অভিভূত, তার স্বপ্ন ভূগোল নিয়ে গবেষণা করা। কিন্তু প্রশ্ন অর্থের অভাবে কতদূর যেতে পারবে। এদিন তার বাড়িতে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন সিরাত ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের কেন্দ্রীয় সম্পাদক শিক্ষক আবু সিদ্দিক খান। তার পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন। এদিন তার হাতে তুলে দিলেন নগদ কিছু অর্থ বই ও কয়েকটি উপঢৌকন সামগ্রী। আবু সিদ্দিক খান বলেন, আমি কষ্ট করেই পড়াশোনা করেছি। কেননা আমার বাড়ি সন্দেশখালির প্রত্যন্ত এলাকায়। এই কষ্ট আমি বুঝি। আজ সুপর্ণা যেভাবে অসহায় পরিবারের বাড়ি থেকে উঠে এসেছে এটা খুবই প্রশংসনীয়। আমি চাই বহু মানুষ আছে তারা সাহায্য করেন, তেমন ব্যক্তিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাব। উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল এডুকেশান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের রাজ্য সম্পাদক শিক্ষক সাজাহান মণ্ডল , বাংলা বিষয়ের গৃহশিক্ষক ইসমাইল মণ্ডল, ডাঃ কানাই মণ্ডল, আসাদুল সরদার প্রমুখ। গোটা এলাকা জুড়ে খুশির হাওয়া সব মহলে ।

error: