সাড়ে তিনমাস লকডাউনে আটকে ভিনদেশে, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি পরিবারের, বাড়িতে ফেরানোর



এহসানুল হক ,বসিরহাট-লকডাউন উঠে গিয়ে দ্বিতীয় আনলক-চলছে।করোনার আবহে সংক্রমণের সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে দ্রুত গতিতে।তারই মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দারা ফিরে গেছেন যে যার রাজ্যে।অথচ পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকরা দিব্যি এখন আটকে আছেন প্রতিবেশি দেশ বাংলাদেশের আনাচে কানাচে।যারা বৈধ উপায়ে বিভিন্ন দরকারে গিয়েছিলেন বাংলাদেশে,তারা এখন ফিরতে পারেনি।তাদেরই মধ্যে একজন মাকসুদুর রহমান ।বসিরহাট থানার সোলাদান গ্রাম পঞ্চায়েতের নারায়নপুরের বাসিন্দা।স্ত্রী রাবিয়া খাতুন বিবি ও ছেলে জাহিদুর রহমান গাজিকে নিয়ে আটকে রয়েছেন ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট থানার ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তের ওপারে ভোমরা সীমান্তে। স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে খুবই কষ্টের মধ্যে দিন গুজরান করছেন। একপ্রকার ভিক্ষাবৃত্তি করে দিন চলছে তিনটি পেটের জন্য ।মঙ্গলবার পাঠানো একটি ভিডিও বার্তায় এমনই অভিযোগ জানিয়েছেন মাকসুদুর রহমান।তিনি এদিন ভিডিও বার্তায় অনুরোধ করে বলেন, গত সাড়ে তিনমাস আগে অর্থাৎ গত ১৫ই মার্চ আমি বসিরহাট নারায়ণপুর থেকে পাসপোর্টে সপরিবারে এসেছিলাম বাংলাদেশের সাতক্ষীরা উপজেলায় একটি আত্মীয়ের বাড়িতে। আমাদের পাসপোর্টে ভিসা ছিলএক মাস।কারনবশত গত ২৫শে মার্চ বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেই।ভোমরা সীমান্তে এলে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন জানিয়ে দেয় ভারতে লকডাউন চলছে এখন যেতে পারবেন না।সীমান্ত লাগোয়া সহৃদয় এক ব্যাক্তি একটি ঘরে আমাদের থাকতে দেয়।স্হানীয় শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে চেয়ে চিন্তে,কখনও দয়াপরবশত খাবার দিচ্ছেন।তাই খেয়ে দিন চলছে কোনমতে।রোজই বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনের কাছে যাই।তারা বলেন ভারত সরকার আপনাদের ফিরিয়ে নিলে আমাদের কোন আপত্তি নেই।যদিও সম্প্রতি সীমান্তে আমদানি রপ্তানির ব্যবসা আংশিক শুরু হলেও বৈধ উপায়ে মানুষের যাতায়াত বন্ধ। সূত্র মারফত তিনি এদিন আরও জানান আন্তর্জাতিক বিমানে বহু ভারতীয়দের নিয়ে যাওয়া হয়েছে ।আমরা গরীব বলে আমাদের দিকে নজর নেই প্রশাসনের।আমরা কি চোর ,তাই আমাদের এমন সাজা পেতে হবে।বৈধ পাসপোর্টে এসেছি। আমি সমস্যায় পড়লে সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু আমাদের নিয়ে কোন উদ্বেগ দেখতে পারছি না। আমার বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ আমাদের এখান থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেন আমরা খুব বিপদের মধ্যে আছি।

error: