ভ্যানচালকের মেয়ে মাধ্যমিকে ৬০৭, শুভেচ্ছা জানালেন রাজিবগান্ধী ফাউন্ডেশন



এহসানুল হক, বসিরহাটঃ– ভ্যান চালিয়ে দিন রোজগার করেন বাবা, মেয়ে সেলিমা পারভেজ মাধ্যমিকে ৬০৭, খুশি বাবা -মা সহ এলাকার মানুষ।বসিরহাট দুই নং ব্লকের খোলাপোতা গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর মথুরাপুর গ্রামের খোলাপোতা প্রাণ কৃষ্ণহালদার গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী সেলিমা পারভীন। এবছর মাধ্যমিকে ৭০০ নম্বরের মধ্যে ৬০৭ পেয়েছে সে। এলাকাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছে। সেলিমার বিষয় ভিত্তিক নম্বর হল – বাংলায় ৯৫,ইংরেজিতে ৮৪,ইতিহাসে ৮২,অঙ্কে ৮৭,ভৌত বিজ্ঞানে ৮৫, জীবন বিজ্ঞানে ৯০ এবং ভূগোলে ৮৪ নম্বর। সেলিমার বাবা সাইফুল ইসলাম ভ্যান চালিয়ে কোনো মতে সংসার চালান। সাইফুলের স্ত্রী সাকিলা বিবি গৃহবধূ। তিনি জানান তার অপর দুই মেয়ের ইতিমধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে এবং তারাও পড়াশোনায় ভালো ছিল। সেলিমার ইচ্ছা ভবিষ্যতে সায়েন্স নিয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন । কিন্তু বাড়ির যা অবস্থা তাতে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। ফলে সাকিলা বিবি ভেবে কুল পাচ্ছেন না কিভাবে মেয়ের স্বপ্ন পূরণ হবে।

আর তার ঘরের যা অবস্থা তাতে পড়াশোনার পরিবেশ নেই বললেই চলে। এদিন বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্ষাকালে পলিথিনের পেপারের ছিদ্র দিয়ে জল পড়ে ফলে বৃষ্টির সময় পাশে চাচার বাড়িতে বই-খাতা নিয়ে উঠে পড়তে হয়। এই রকম দুঃস্থ পরিবারের মানুষের পাশে দাঁড়ালে তারা একটু বাঁচতে পারবে এবং তাদের সন্তানেরা আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাতে পারবে। এদিন রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে সেলিমাকে শুভেচ্ছা জানানো হয় রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনের কর্ণধর ফিরোজ আহমেদ মোল্লা সহ কয়েকজন ব্যক্তি সেলিনার বাড়িতে যান তার হাতে তুলে দেন ফুলের তোড়া ও মিষ্টি। এদিন রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনের কর্ণধর ফিরোজ আহমেদ মোল্লা বলেন, সেলিমার পাশে আমরা রয়েছি যখন যে সমস্যায় পড়বে আমরা তার পাশে থাকবো। এইরকম একটা মেয়ে যদি সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে ও বহু মানুষ উপকৃত হবে।

error: