দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন ফুরফুরা শরীফের একনিষ্ঠ খাদেম মাওলানা মুসতাক আহমেদ



এহসানুল হক,ভাঙ্গড় :-ইহলোক ত্যাগ করলেন ফুরফুরা সিলসিলার প্রবীন আলেমেদ্বীন মেজলা হুজুর পিরকেবলার বিশিষ্ট খলিফা সুফি মোস্তাক আহমদ সাহেব

সুদীর্ঘ সংগ্রামী জীবন এর ইতি ঘটিয়ে, অসংখ্য গুনগ্রাহী, ভক্ত, মুরিদ ও সন্তান-সন্ততি নাতিপুতি রেখে, প্রায় একশত বছর বয়সে ইন্তেকাল করলেন ফুরফুরা সিলসিলার বিখ্যাত আলেমে দ্বীন মেজলা হুজুর পিরকেবলা রহমাতুল্লাহ আলাইহির অন্যতম বিশিষ্ট খলিফা শাহ সুফি হযরত পীর মাওলানা মোস্তাক আহমেদ সাহেব। শনিবার রাত 10 টা 30 মিনিটে ভাঙ্গড়ের কচুয়া গ্রামে তার নিজ বাসভবনে, দীর্ঘদিনের হার্টের সমস্যা জনিত কারণে পরলোক গমন করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিন পুত্র ও ছয় কন্যা রেখে যান তিনি।

সুফি মোস্তাক আহমেদ সাহেব গ্রামের বিদ্যালয়ে বাল্য বয়সে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ফুরফুরা শরীফে পড়াশোনার জন্য গমন করেন। সেখান থেকে তিনি ফুরফুরা শরীফের মুফতি আজম মেজলা হুজুর পিরকেবলার নির্দেশে তৎকালীন ফুরফুরা মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিস উত্তরপ্রদেশের আজম গড় এর জিয়াউল মুস্তাফা আলকাদিরির একান্ত সান্নিধ্যে দাওরায়ে হাদিস সমাপ্ত করেন। এরপর তিনি ফুরফুরা শরীফের পীর আল্লামা আবু জাফর সিদ্দিকী রাহমাতুল্লাহ আলাইহি এর কাছে আধ্যাত্মিকতার পাঠ গ্রহণ করে নিজেকে এক উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেন।

সুফি মোস্তাক আহমেদ সাহেবের জীবনের একটা বড় অংশ ফুরফুরার বড় হুজুর, মেজ হুজুর, ন’হুজর ও ছোট হুজুর গনের সান্নিধ্যেই কেটে যায়। তিনি তার স্বচক্ষে ফুরফুরা দাদা হুজুর পীর কেবলা কে দেখেছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে তিনি ফুরফুরার মেজো হুজুরের অন্যতম বিশিষ্ট খলিফা হিসাবে স্বীকৃতি পান।

শাহ সুফি মোস্তাক আহমেদ সাহেব উত্তর 24 পরগনার বারাসাত জামে মসজিদের খতিব ও জুমার ইমাম হিসাবে সুদীর্ঘ বছর দায়িত্ব পালন করেন। যুবক বয়স থেকেই তিনি তৎকালীন পূর্ব বঙ্গ, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সর্বত্রই ওয়াজের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকবিদ্যা ও ইসলামের খেদমত করেন। তিনি তার জীবনে বহু মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পীর সাহেব কেবলা দের প্রতিষ্ঠিত বহু মসজিদ এবং মাদ্রাসা কে ভগ্নপ্রায় অবস্থা এসে গেলে সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে সহযোগিতা এনে সেগুলোর আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

সুফি মোস্তাক আহমেদ সাহেব তার জীবনে পঞ্চাশের অধিক বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করেছেন, তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলঃ ‘আযাবে কবর’, ‘উম্মতে মুহাম্মদীর দরুদ সালাম’, ‘স্কুল মাদ্রাসা শিক্ষা’, ‘পির পরিচয়’, ‘মুসলিম নারীর গৌরব’ প্রভৃতি।

তিনি তাঁর সুদীর্ঘ জীবন ইসলামের খেদমতে অতিবাহিত করেছেন। বর্তমানে তিনি ফুরফুরা সিলসিলার একজন প্রবীণতম বিজ্ঞ আলেম ছিলেন।

তৎকালীন যুগে তিনি পায়ে হেঁটে বা গরুর গাড়ি অথবা পালকি চড়ে এপার বাংলা, ওপার বাংলা ও আসামের বহু জায়গায় ইসলামের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে তার রেখে যাওয়া তিন পুত্রের মধ্যে দুই পুত্র কেই তিনি আলেমেদ্বীন করে ফুরফুরা সিলসিলার অন্যতম হাতিয়ার রূপে ইসলামের খেদমতগার হিসাবে তৈরি এবং প্রতিষ্ঠিত করে গেলেন। 2013 সালে তার স্ত্রী বিয়োগের পর তার পাশেই নিজের কবর নির্ধারিত করে, দীর্ঘ আট বছর যাবৎ সেই জায়গায় তিনি প্রায় 700 খতম কোরআন শরীফ নিয়মিতভাবে তেলাওয়াত করেছেন।

তার মৃত্যুতে এক দীর্ঘ ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটলো। ফুরফুরা শরীফ এর পীর আল্লামা ইব্রাহিম সিদ্দিকী সহ ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এর কর্ণধার পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী, পীরজাদা মিনহাজ সিদ্দিকী, পীরজাদা জুনায়েদ সিদ্দিকী, পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী, সহ বহু পীর সাহেব পীরজাদা গান তার মৃত্যু সংবাদে শোক প্রকাশ করেছেন।

error: